Last Update : June 29, 2024
উপমন্যুকথা : একাদশ শ্রেণির সংস্কৃত বিষয়ের প্রথম সেমেস্টারের সিলেবাস-এ মহাভারতের ‘উপমন্যুকথা’ অংশটি পাঠ্য রচনা হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
Table of Contents
উপমন্যুকথা : সারাংশ, সরলার্থ, সরল উচ্চারণ, শব্দার্থ
আলোচিত টপিক
উপমন্যুকথা-র গল্পাংশ
আয়োদ ধৌম্য আর এক শিষ্য উপমন্যুকে আদেশ দিলেন, বৎস, তুমি আমার গো রক্ষা কর। উপমন্য প্রত্যহ গরু চরিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে এসে গুরুকে প্রণাম করতে লাগলেন। একদিন গুরু জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস, তুমি কি খাও? তোমাকে বেশ স্থূল দেখছি। উপমন্যু বললেন, আমি ভিক্ষা ক’রে জীবিকানির্বাহ করি। গুরু বললেন, আমাকে নিবেদন না ক’রে ভিক্ষান্ন ভোজন উচিত নয়। তার পর থেকে উপমন্যু, ভিক্ষাদ্রব্য এনে গুরুকে দিতেন। তথাপি তাঁকে পুষ্ট দেখে গুরু বললেন, তুমি যা ভিক্ষা পাও সবই তো আমি নিই, তুমি এখন কি খাও? উপমন্য বললেন, প্রথমবার ভিক্ষা করে আপনাকে দিই, তার পর আবার ভিক্ষা করি, তাতেই আমার জীবিকানির্বাহ হয়। গুরু বললেন, এ তোমার অন্যায়, এতে অন্য ভিক্ষাজীবীদের হানি হয়, তুমিও লোভী হয়ে পড়ছ।
তারপর উপমন্যু একবার মাত্র ভিক্ষা ক’রে গুরুকে দিতে লাগলেন। গুরু আবার তাঁকে প্রশ্ন করলেন, বৎস, তোমাকে তো অতিশয় স্থূল দেখছি, এখন কি খাও? উপমন্যু বললেন, আমি এইসব গরুর দুধ খাই। গুরু বললেন, আমার অনুমতি বিনা দুধ খাওয়া তোমার অন্যায়। উপমন্যু তার পরেও স্থূলকায় রয়েছেন দেখে গুরু বললেন, এখন কি খাও? উপমন্যু বললেন, স্তন্যপানের পর বাছুররা যে ফেন উদ্গার করে, তাই খাই। গুরু বললেন, এই বাছুররা দয়া ক’রে তোমার জন্য প্রচুর ফেন উদ্দ্গার করে, তাতে এদের পুষ্টির ব্যাঘাত হয়; ফেন খাওয়াও তোমার উচিত নয়। গুরুর সকল নিষেধ মেনে নিয়ে উপমন্যু গরু চরাতে লাগলেন। একদিন তিনি ক্ষুধার্ত হয়ে অর্কপত্র (আকন্দপাতা) খেলেন। সেই ক্ষার তিক্ত কটু রুক্ষ তীক্ষ্ণ বস্তু খেয়ে তিনি অন্ধ হলেন এবং চলতে চলতে কূপের মধ্যে পড়ে গেলেন।
সূর্যাস্তের পর উপমন্যু ফিরে এলেন না দেখে আয়োদ ধৌম্য বললেন, আমি তার সকল প্রকার ভোজনই নিষেধ করেছি, সে নিশ্চয় রাগ করেছে, তাকে খোঁজা উচিত। এই ব’লে তিনি শিষ্যদের সঙ্গে অরণ্যে গিয়ে ডাকলেন, বৎস উপমন্যু, কোথায় আছ, এস। উপমন্যু কূপের ভিতর থেকে উত্তর দিলেন, আমি অর্কপত্র ভক্ষণের ফলে অন্ধ হয়ে এখানে প’ড়ে গেছি। ধৌম্য বললেন, তুমি দেববৈদ্য অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের স্তব কর, তাঁরা তোমাকে চক্ষুষ্মান করবেন।
উপমন্য স্তব করলেন। অশ্বিদ্বয় তাঁর নিকট আবির্ভূত হয়ে বললেন, আমরা প্রীত হয়েছি, তুমি এই পূপ (পিষ্টক) ভক্ষণ কর। উপমন্যু বললেন, গুরুকে নিবেদন না ক’রে আমি খেতে পারি না। অশ্বিদ্বয় বললেন, তোমার উপাধ্যায়ও পূর্বে আমাদের স্তব ক’রে পূপ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা গুরুকে নিবেদন না ক’রেই খেয়েছিলেন। উপমন্যু বললেন, আমি আপনাদের নিকট অনুনয় করছি, গুরুকে নিবেদন না ক’রে আমি খেতে পারব না। অশ্বিদ্বয় বললেন, তোমার গুরুভক্তিতে আমরা প্রীত হয়েছি; তোমার উপাধ্যায়ের দন্ত কৃষ্ণ লৌহময় হবে, তোমার দন্ত হিরন্ময় হবে, তুমি চক্ষুষ্মান হবে এবং শ্রেয়োলাভ করবে। উপমন্যু চক্ষু লাভ ক’রে গুরুর কাছে এলেন এবং অভিবাদন ক’রে সকল বৃত্তান্ত জানালেন। গুরু প্রীত হয়ে বললেন, অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের বরে তোমার মঙ্গল হবে, সকল বেদ এবং ধর্মশাস্ত্রও তুমি আয়ত্ত করবে। উপমন্যুর পরীক্ষা এইরূপে শেষ হ’ল।
“উপমন্যুকথা” রচনাটির উৎস – মহাভারতের “আদিপর্ব”-এর অন্তর্গত পৌষ্যপর্বাধ্যায় নামক তৃতীয় অধ্যায় থেকে গৃহীত
সাহায্য — রাজশেখর বসুর মহাভারতের সারানুবাদ
উপমন্যুকথা-র সরলার্থ ও সন্ধিবিহীন সরল উচ্চারণ
- অথ-অপরঃ শিষ্যঃ-তস্য-এব-আয়োদস্য ধৌম্যস্য-উপমন্যুঃ-নাম। (তারপর আয়োদ ধৌম্যের অপর শিষ্য ছিল উপমন্যু।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ প্রেষয়ামাস। (তাকে গুরু পাঠালেন অর্থাৎ গোরু রক্ষা করতে পাঠালেন।)
- বৎস্য-উপমন্যো গা রক্ষস্ব-ইতি। (বৎস্য উপমন্যু, গোরুগুলিকে রক্ষা করো।)
- স উপাধ্যায়-বচনাৎ-রক্ষদ্ গাঃ। (সে গুরুর আদেশ অনুযায়ী গোরুগুলি রক্ষা করলো।)
- স চ-অহনি গা রক্ষিত্বা দিবস-ক্ষয়ে-অভ্যাগম্য-উপাধ্যায়স্য-অগ্রতঃ স্থিত্বা নমঃ-চক্রে। (এবং সে দিনের বেলায় গোরুগুলি রক্ষা করে দিনের শেষে গুরুর কাছে এসে দাঁড়িয়ে প্রণাম করলো।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ পীবানম্-অপশ্যৎ। (উপাধ্যায় তাকে অর্থাৎ উপমন্যুকে বেশ মোটাসোটা দেখলেন।)
- উবাচ চ এনম্ — বৎস্য-উপমন্যো কেন বৃত্তিং কল্পয়সি। (এবং তাকে বললেন — বৎস্য উপমন্যু, কীভাবে তুমি বৃত্তি অর্থাৎ জীবিকানির্বাহ করো।)
- পীবান্-অসি দৃঢ়ম্-ইতি। (তুমি নিশ্চিত বেশ মোটাসোটা হয়েছ।)
- স উপাধ্যায়ং প্রতি-উবাচ ভৈক্ষেণ বৃত্তিং কল্পয়ামি-ইতি। (সে গুরুকে জানালো — ভিক্ষা করে জীবিকানির্বাহ করি।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ — মম-অনিবেদ্য ভৈক্ষং ন-উপযোক্তব্যম্-ইতি। (তখন গুরু তাকে বললেন — আমাকে নিবেদন না করে ভিক্ষান্ন তোমার গ্রহণ করা উচিৎ হয় নি।)
- স তথা-ইতি-উক্ত্বা পুনঃ-অরক্ষদ্ গাঃ। (‘তাই হবে’ এই বলে সে আবার গোরু রক্ষা করতে গেল।)
- রক্ষিত্বা চ-আগম্য তথা-এব-উপাধ্যায়স্য-অগ্রতঃ স্থিত্বা নমঃ-চক্রে। (গোরুগুলি রক্ষা করে এবং আবার উপাধ্যায়ের সামনে এসে প্রণাম করলো।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ-তথা-অপি পীবানম্-এব দৃষ্ট্বা-উবাচ — বৎস্য-উপমন্যো সর্বম্-অশেষতঃ-তে ভৈক্ষং গৃহ্নামি। (গুরু তাকে আগের মতোই মোটাসোটা দেখে বললেন — বাছা উপমন্যু, তোমার সব ভিক্ষান্ন যে আমি গ্রহণ করি।)
- কেন-ইদানীং বৃত্তিং কল্পয়সি-ইতি। (এখন কী উপায়ে জীবিকানির্বাহ করো?)
- স এবম্-উক্ত উপাধ্যায়েন প্রতি-উবাচ — ভগবতে নিবেদ্য পূর্বম্-অপরং চরামি। (গুরু এই কথা শুনে, সে বললো — আগে গুরুকে নিবেদন করি, তারপর আবার ভিক্ষায় বের হই।)
- তেন বৃত্তিং কল্পয়ামি-ইতি। (এইভাবে আমি জীবিকানির্বাহ করি।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ — মা এষা ন্যায্যা গুরু-বৃত্তিঃ। (তাকে গুরু বললেন — এটা গুরুর প্রতি সঠিক কর্তব্য বা সমুচিত কাজ হলো না।)
- অন্যেষাম্ অপি বৃত্তি-উপরোধং করোষি-এবং বর্তমানঃ লুব্ধঃ-অসি-ইতি। (অন্যদের জীবিকানির্বাহে তুমি বাধা সৃষ্টি করছো, বর্তমানে তাই করে তোমার লোভ হয়েছে।)
- স তথা-ইতি-উক্ত্বা গা অরক্ষৎ। (‘তাই হবে’ বলে সে গোরুগুলিকে রক্ষা করতে লাগলো।)
- রক্ষিত্বা চ পুনঃ-উপাধ্যায়-গৃহম্-আগম্য-উপাধ্যায়স্য-অগ্রতঃ স্থিত্বাঃ নমঃ-চক্রে। (গোরুগুলি রক্ষার পর গুরুগৃহে এসে গুরুর সামনে উপস্থিত হয়ে গুরুকে প্রণাম করলো।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ-তথা-অপি পীবানম্-এব দৃষ্ট্বা পুনঃ-উবাচ — অহং তে সর্বং ভৈক্ষং গৃহ্নামি, ন চ-অন্যৎ-চরসি। (গুরু তাকে তা সত্ত্বেও মোটাসোটা দেখে বললেন — আমি সমস্ত ভিক্ষান্ন গ্রহণ করি, তুমি অন্য কোথাও ভিক্ষাগ্রহণে যাও না।)
- পীবান্-অসি। (তাও মোটাসোটা লাগছে।)
- কেন বৃত্তিং কল্পয়সি-ইতি। (কী উপায়ে বৃত্তি পালন করছো?)
- স উপাধ্যায়ং প্রতি-উবাচ — ভো এতাসাম্ গবাং পয়সা বৃত্তিং কল্পয়ামি-ইতি। (সে গুরুকে জানালো — হে গুরুদেব, আমি গোরুর দুধ দিয়ে জীবিকানির্বাহ করি।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ — ন-এতৎ-ন্যায্যম্। (গুরু তাকে বললেন — এটা ন্যায় নয়।)
- পয় উপযোক্তুং ভবতো ময়া-অন্-অনুজ্ঞাতম্-ইতি। (আমার অনুমতি ছাড়া দুধ গ্রহণ তোমার ঠিক হয় নি।)
- স তথা-ইতি প্রতিজ্ঞায় গাং রক্ষিত্বা পুনঃ-উপাধ্যায়-গৃহম্-এত্য গুরোঃ-অগ্রতঃ স্থিত্বা নমঃ-চক্রে। (সে তাই হবে বলে প্রতিজ্ঞা করে গোচারণ শেষে পুনরায় গুরুগৃহে গুরুর সামনে এসে প্রণাম করে।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ পীবানম্-এব-অপশ্যৎ। (গুরু তাকে হৃষ্টপুষ্ট দেখলেন)
- উবাচ চ-এনম্ — ভৈক্ষং ন-অশ্নাসি। (এবং তাকে বললেন — তুমি ভিক্ষা খাও না।)
- ন চ-অন্যৎ-চরসি। (তাছাড়া দ্বিতীয়বার ভিক্ষা করতেও যাও না।)
- পয়ো ন পিবসি। (দুধ খাও না।)
- পীবান্-অসি, কেন বৃত্তিং কল্পয়সি-ইতি। (বেশ মোটা লাগছে, কীভাবে জীবিকানির্বাহ করছ।)
- স এবম্-উক্ত উপাধ্যায়ং প্রতি-উবাচ — ভোঃ! ফেনং পিবামি, যম্-ইমে বৎসা মাতৃণাং স্তনং পিবন্ত উদ্গিরন্তি। (গুরু এমন বললে, সে গুরুকে জানাল — হে গুরুদেব, এই বাছুরগুলি মায়ের দুধ খাওয়ার সময় যে ফেনা উদ্গার করে, আমি সেই ফেনা পান করি।)
- তদ্-এবম্-অপি বৎসানাং বৃত্তি-উপরোধম্ করোষি-এবং বর্তমানঃ। (বর্তমানে তাই করে তুমি বাছুরগুলির জীবিকানির্বাহে বাধা সৃষ্টি করছো।)
- ফেনম্-অপি ভবান্-ন পাতুম্-অর্হতি-ইতি। (তাই তুমি দুধের ফেনাও পান করার যোগ্য নও।)
- স তথা-ইতি প্রতিজ্ঞায় নিরাহার্ঃ-তাঃ গা অরক্ষৎ। (সে প্রতিজ্ঞা করে নিরাহার থেকে গরুগুলি রক্ষা করতে লাগল।)
- তথা প্রতিষিদ্ধো ভৈক্ষং ন-অশ্নাতি ন চ-অন্যৎ-চরতি, পয়ো ন পিবতি, ফেনম্ ন-উপযুঙ্ ক্তে। (গুরু বারণ করার জন্য, সে ভিক্ষান্ন গ্রহণ করত না, দ্বিতীয়বার ভিক্ষায় যেত না, দুধ এবং দুধের ফেনা খেত না।)
- স কদাচিৎ-অরণ্যে ক্ষুধার্তঃ-অর্কপত্রাণি-অভক্ষয়ৎ। (কোনো একদিন অরণ্যে সে খিদেয় অর্কপত্র খেল।)
- স তৈঃ-অর্কপত্রৈঃ-ভক্ষিতৈঃ ক্ষার-কটূষ্ণ-বিপাকিভিঃ-চক্ষুষি-উপহতঃ-অন্ধঃ-অভবৎ। (সেই ক্ষার, কটূ স্বাদের পাতা খাওয়ায় তার চোখ অন্ধ হয়ে গেল।)
- সঃ-অন্ধঃ-অপি চঙ্ ক্রম্যমাণঃ কূপে-অপতৎ। (সে অন্ধ হয়ে এদিক সেদিক ঘুরতে ঘুরতে একটি কূপের মধ্যে পড়ে গেল।)
- অথ তস্মিন্-অনাগচ্ছতি-উপাধ্যায়ঃ শিষ্যান্-অবোচৎ — ময়া-উপমন্যুঃ সর্বতঃ প্রতিষিদ্ধঃ। (তারপর তাকে আসতে না দেখে গুরু শিষ্যদের বললেন — আমি উপমন্যুকে সবকিছু বারণ করেছি।)
- স নিয়তং কুপিতঃ। (সে নিশ্চিত রেগেছে।)
- ততো ন-আগচ্ছতি চিরগতঃ-চ-ইতি। (তাই সে আসছে না, চিরকালের জন্য চলে গেছে।)
- স এবম্-উক্ত্বা গত্বা-অরণ্যম্-উপমন্যোঃ-আহ্বানং চক্রে — ভো উপমন্যো ! ক্ব-অসি বৎস-ইহি-ইতি। (তিনি এই বলে অরণ্যে গিয়ে উপমন্যুকে ডাকলেন — বাছা উপমন্যু, তুমি কোথায় গিয়েছ।)
- স তদ্-আহ্বানম্-উপাধ্যায়াৎ-শ্রুত্বা প্রতি-উবাচ-উচ্চৈঃ—অয়ম্-অস্মি, ভো উপাধ্যায় ! কূপে পতিত ইতি। (উপাধ্যায়ের আহ্বান শুনে উপমন্যু উচ্চস্বরে বলল– হে গুরুদেব! আমি এখানে। কুয়োতে পড়ে গিয়েছি।)
- স তং প্রতি-উবাচ। কথমসি কূপে পতিত ইতি। (তিনি তাকে বললেন– তুমি কীভাবে কূপে পড়ে গেল।)
- স তং প্রতি-উবাচ—অর্কপত্রাণি ভক্ষয়িত্বা-অন্ধীভূত-অস্মি। (সে গুরুকে বলল– আকন্দ পাতা খেয়ে আমি অন্ধ হয়েছি।)
- অতঃ কূপে পতিত ইতি। (তাই কুয়োতে পড়ে গিয়েছি।)
- তম্-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ—অশ্বিনৌ স্তুহি। (তাকে উপাধ্যায় বললেন– অশ্বিনীদ্বয়কে স্তুব করো।)
- তৌ ত্বাং চক্ষুষ্মন্তং করিষ্যতো দেবভিষজৌ-ইতি। (তাঁরা দৈবভেষজের দ্বারা তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেবেন।)
- স এবম্-উক্ত উপাধ্যায়েন স্তোতুং প্রচক্রমে দেবৌ-অশ্বিনৌ। (গুরু এই কথা বললে, সে দেবতা অশ্বিনীকুমারদ্বয়কে স্তব করতে লাগল।)
- তেন-অভিষ্টুতৌ-অশ্বিনৌ আজগ্মতুঃ। (তার স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে অশ্বিনীকুমারদ্বয় আসলেন।)
- আহতুঃ-চ-এনম্—প্রীতৌ স্বঃ। (তাঁরা বললেন– আমরা প্রীত হয়েছি।)
- এষঃ তে-অপূপঃ। অশান-এনম্-ইতি। (এই নাও পিঠে। খাও এগুলি।)
- স এবম্-উক্তঃ প্রতি-উবাচ—ন-অনৃতম্-ঊচতুঃ-ভবন্তৌ। (এই কথা বললে, সে বলে—আপনারা মিথ্যা বলছেন না।)
- ন তু-অহম্-এতম্-অপূপম্-উপযোক্তুম্-উৎসহে অনিবেদ্য গুরব ইতি। (কিন্তু আমি গুরুকে নিবেদন না করে এই পিঠে খেতে পারব না।)
- ততঃ-তম্-অশ্বিনৌ-ঊচতুঃ—আবাভ্যাং পুরস্তাদ্-ভবত উপাধ্যায়েন-এবম্-এব-অভিষ্টুতাভ্যাম্-অপূপঃ প্রীতাভ্যাম্ দত্তঃ। (তখন অশ্বিনীকুমারদ্বয় বললেন—পূর্বে তোমার গুরু আমাদের স্তব করে সন্তুষ্ট করেছিলেন এবং আমরা তাঁকে পিঠে খেতে দিয়েছিলাম।)
- উপযুক্তঃ-চ স তেন-অনিবেদ্য গুরবে। (কিন্তু তিনি তাঁর গুরুকে না দিয়েই তা খেয়েছিলেন।)
- ত্বম্-অপি তথা-এব কুরুষ্ব যথাকৃতম্-উপাধ্যায়েন-ইতি। (তাই তোমার গুরু যেমন করেছিলেন, তুমিও তেমন করো।)
- স এবম্-উক্তঃ পুনঃ-এব প্রতি-উবাচ-এবৌ—প্রতি-অনুনয়ে ভবন্তৌ-অশ্বিনৌ ন-উৎসহে-অহম্ অনিবেদ্য-উপাধ্যায়ায়-উপযোক্তুম্-ইতি। (এই কথা বললে, পুনরায় সে তাঁদের অনুনয় করলো—আমি গুরুকে নিবেদন না করে খাব না।)
- তম্-অশ্বিনৌ-আহতুঃ—প্রীতৌ স্বঃ-তব-অনয়া গুরুবৃত্ত্যা। (তাঁকে অশ্বিনীকুমারদ্বয় বললেন—তোমার গুরুভক্তিতে আমরা প্রীত হয়েছি।)
- উপাধ্যায়স্য তে কার্ষ্ণায়সাঃ দন্তাঃ। (তোমার গুরুর লোহারমতো কালো দাঁত হবে।)
- ভবতো হিরণ্ময়া ভবিষ্যন্তি। (তোমার সোনার দাঁত হবে।)
- চক্ষুমান্-চ ভবিষ্যসি। (তুমি চক্ষুলাভ করবে।)
- শ্রেয়ঃ-চ-অব-আপ্স্যসি-ইতি। (নিশ্চয় তুমি মঙ্গললাভ করবে।)
- স এবম্-উক্তঃ-অশ্বিভ্যাম্ লব্ধচক্ষুঃ উপাধ্যায়-সকাশম্-আগম্য-উপাধ্যায়ম্-অভিবাদ্য-আচচক্ষে। (অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের কৃপায় চক্ষুলাভ করে সে উপাধ্যায়ের নিকটে এসে অভিবাদন জানিয়ে সমস্ত ঘটনা বলল।)
- স চ-অস্য প্রীতিমান্-অভূৎ। (এবং তিনি খুব প্রীত হলেন।)
- আহ চ-এনম্—যথা-অশ্বিনৌ-আহতুঃ-তথা ত্বম্ শ্রেয়ঃ-অব-আপ্স্যসি-ইতি। (এবং বললেন—যেমন অশ্বিনীকুমারদ্বয় বলেছেন, তেমনই তুমি নিশ্চয় মঙ্গললাভ করবে।)
- সর্বে চ তে বেদাঃ প্রতিভাস্যন্তি-ইতি। (এবং সকল বেদ তোমার কাছে প্রকাশিত হবে।)