হাসবিদ্যকথা বিদ্যাপতি প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত

হাসবিদ্যকথা বিদ্যাপতি প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত :

হাসবিদ্যকথা বিদ্যাপতি প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত


প্রশ্নোত্তর

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (প্রশ্নমান-২)


উঃ কাঞ্চী নগরীতে কোন এক ধনীর গৃহে চুরি করার সময় শাসকপুরুষদের দ্বারা সিঁধের মুখে চারটি চোর ধরা পড়ে। তারা তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় রাজার কাছে নিয়ে এলে সেই দেশের প্রথামত রাজা সুপ্রতাপ চারজন চোরকেই শূলে চড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশ দেন।

উঃ মানুষ বিপদে পড়ে চেষ্টার দ্বারা যেমন অনেকক্ষেত্রেই বিপদ থেকে উদ্ধার পায় সেরূপ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও চুপচাপ বসে থাকা উচিত নয় – তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ায় যত্নবান ও উপায় চিন্তা করা উচিত। উপায় সফল হলে জীবন বেঁচে যায় আর না হলে মৃত্যুর অধিক আর কি হবে? অতএব মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার নিমিত্ত চেষ্টা করা উচিত।

উঃ মূল্যবান জ্ঞান (মহতী বিদ্যা) যা চোর জানে তা হ’ল “সোনার চাষ করতে জানা।” সরিষাপ্রমাণ সোনার বীজ প্রস্তুত করে মাটিতে বুনে দিতে হয়, একমাসেই সরিষাপ্রমাণ অঙ্কুরের উদ্‌গম হয়।

আরো পড়ুন :  অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকের বিষয়বস্তু ও কালিদাসের নাট্যবৈশিষ্ট্য, Class 12 Sanskrit

উঃ চতুর্থ চোর মনে মনে একথাই স্থির জানত যে এ দুনিয়ায় অধিকাংশ মানুষই জীবনে কিছু না কিছু না বলে নিয়েছে অর্থাৎ চুরি করেছে। এই নীতির উপর ভিত্তি করেই সে রাজামশাইকে সোনার চাষের লোভ দেখিয়ে বীজ ও জমি প্রস্তুত করে বীজ বপনের লোক চাইল- কিন্তু লোক পেল না। কেননা যে কোনও দিন কিছুই চুরি করেনি এমন ব্যক্তি ছাড়া কারও বীজ বপনের অধিকার নেই। চোরটি অবশেষে বলল, ‘মহারাজ দেখা গেল আপনারা সকলেই চোর তবে আমার একার শাস্তিই বা কেন হবে?’ একথায় রাজা হেসে বললেন এর বুদ্ধি আছে এবং হাস্যরসিকও বটে। একে পুরস্কার দেওয়া হোক আর সে আমার পাশে থেকে আমাকে হাসাক। এভাবে চতুর্থ চোর শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

আরো পড়ুন :  জয়দেব ও গীতগোবিন্দ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা, সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে কবি জয়দেবের অবদান

উঃ ‘যে জীবনে কোন দিন কিছুই চুরি করেনি’ স্বর্ণবীজ বপনে তারই অধিকার আছে। রাজা সুপ্রতাপ একবার চারণদের পুরস্কার দেবার নিমিত্ত তাঁর পিতার ধন চুরি করেছিলেন। তাই তিনি বীজ বুনতে প্রস্তুত ছিলেন না।

উঃ কারণ চোর যখন রাজাকে স্বর্ণবীজ বপন করার নিমিত্ত এমন একজনকে দিতে বলল ‘যে কোন দিন কিছু চুরি করে নি’ দেখা গেল সকলেই কোন না কোন সময়ে কিছু না কিছু চুরি করেছে। এ সময় চোর বলে উঠল- “মহারাজ, দেখছি আপনারা সকলেই চোর, তবে কেন শুধু আমারই শাস্তি হবে।” এ কথায় রাজা মশাই চোরের বুদ্ধির তারিফ করে হেসে উঠলেন এবং পুরস্কৃত করে বিদূষক হিসেবে তাকে নিয়োগ করলেন।

উঃ নর্মসচিব বা বিদূষককে হাসবিদ্য বলে। ইহারা বুদ্ধিকুশলতা গুণে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি ও বাগবিন্যাস দ্বারা সকলের আনন্দ ও হাস্য উৎপাদন করে। অতীব দুঃখী বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লোকও ইহাদের কৌশলে মনস্তাপ এবং দুশ্চিন্তা বিস্মৃত হয়ে বিমল আনন্দ উপভোগ করে। ইহাদের সান্নিধ্যে এরূপে মানুষের জীবন আনন্দবহুল ও দীর্ঘায়ু হয়।

আরো পড়ুন :  বনগতা গুহা বড়ো প্রশ্ন উত্তর, 7+ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

উঃ উপযুক্ত উপায় অবলম্বনে সচেষ্ট ব্যক্তি আসন্ন নিশ্চিত মৃত্যু হতেও নিজেকে বাঁচাতে পারে। সংস্কৃতে – 

প্রত্যাসন্নেহপি মরণে রক্ষোপায়ো বিধীয়তে।

উপায়ে সফলে রক্ষা ভবত্যেব ন সংশয়ঃ।।


চলবে…

Leave a Comment

error: Content is protected !!