দ্বাদশ শ্রেণির সংস্কৃত সাহিত্য : দ্বাদশ শ্রেণির সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস টপিক থেকে নাটক, কাব্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদচর্চা অন্তর্ভুক্ত। এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।
Table of Contents
দ্বাদশ শ্রেণির সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর, Class 12 Sanskrit, নাটক, কাব্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চা, আয়ুর্বেদচর্চা
আলোচিত টপিক
জয়দেব ও গীতগোবিন্দ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ। অথবা, সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে কবি জয়দেবের অবদান কতখানি তা আলোচনা করো।
ভূমিকা—খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে গৌড় রাজসভায় পঞ্চরত্নের মধ্যে জয়দেব একজন ছিলেন। অতএব তাঁর আবির্ভাবকাল খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগ। বীরভূমে অজয় নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব গ্রামে কবির জন্ম। তাঁর পিতা শ্রী ভোজদেব, মাতার নাম বামাদেবী।
গীতগোবিন্দম্
বিশ্বসাহিত্যের ভাণ্ডারের উৎকৃষ্ট গীতিকাব্যগুলির মধ্যে সংস্কৃতে রচিত গীতিকবিতাগুলি অন্যতম। গীতিময় কাব্যকে গীতিকাব্য বলে। ভক্তিমূলক গীতিকাব্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হল জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্’।
গীতিকাব্য হিসাবে কালিদাসের ‘মেঘদূতম্’-এর পরেই যার স্থান, সেটি হল জয়দেবের ভক্তিমূলক গীতিকাব্য ‘গীতগোবিন্দম্’।
কাব্যের উৎস—শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের দ্বাদশ স্কন্ধের পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের বসন্তকালীন লীলাকে কেন্দ্র করে জয়দেব এই ভক্তিমূলক গীতিকাব্য রচনা করেন। এ ছাড়া হরিবংশ, বিষ্ণুপুরাণ, হাল সংকলিত গাথাসপ্তশতী প্রভৃতির প্রভাব ‘গীতগোবিন্দম্’-এ কমবেশি রয়েছে।
কাব্যের নামকরণ—’গীতগোবিন্দম্’ নামকরণটি সবদিক দিয়ে যুক্তিযুক্ত, কারণ এই কাব্যের নায়ক গোবিন্দ অর্থাৎ কৃষ্ণ
কাব্য পরিচয়—জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্’ রাধাকৃষ্ণের চিরন্তন প্রেমলীলাকে উপজীব্য করে রচিত। এই কাব্যে ১২টি সর্গ, ৮০টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমাবেশ রয়েছে। বৈষ্ণব সাধকদের কাছে গ্রন্থটি দার্শনিক মহাকাব্যরূপে সমাদৃত।
শ্রীরাধার কৃষ্ণ বিরহ ব্যাকুলতা এবং রাধাকৃষ্ণের মিলনবিলাস বর্ণনা—এই দ্বাদশ সর্গবিশিষ্ট কাব্যের কাহিনিসার।
কাব্যবৈশিষ্ট্য—এই কাব্যের বৈশিষ্ট্যগুলি হল
- ‘গীতগোবিন্দম্’ মিলনান্তক ভক্তিমূলক গীতিকাব্য।
- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্’ নাট্যগীতের আকারে লেখা কাব্য। তবে এর গানগুলি মর্মস্পর্শী।
- কাব্যের পাত্রপাত্রী মাত্র তিনজন সখী, কৃষ্ণ ও রাধা।
- কাব্যের অমূল্যসম্পদ গান, যা গীতিকবিতার মতো হৃদয়ভাবের প্রকাশে ঝংকৃত।
- জয়দেবের কাব্য সংস্কৃতে রচিত হলেও তার ভাবধর্ম একান্তভাবে লৌকিক প্রাণধর্মের অনুকূল।
মূল্যায়ন—কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘আমরা’ কবিতায় বলেছেন,
“বাংলার রবি জয়দেব কবি কান্তকোমল পদে
করেছে সুরভি সংস্কৃতের কাঞ্চন-কোকনদে”।
কাব্যের রাধা-কৃষ্ণের মিলনকাহিনি যেন পরামাত্মা ও জীবাত্মার মিলন। তাই এটি ‘ভক্তিমূলক গীতিকাব্য’ হিসেবে অমর হয়ে আছে।
সংস্কৃত গীতিকাব্য হিসেবে ‘মেঘদূতে’র মূল্যায়ন করো। অথবা, কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কাব্য সম্বন্ধে লেখ।
‘মেঘদূতম্’ মহাকবি কালিদাসের অপূর্ব সৃষ্ট গীতিকাব্য। কবিচিত্তের তীব্র বিরহবেদনা যেন ভাষায় মূর্ত হয়ে উঠেছে এই কাব্যে। মন্দাক্রান্তা ছন্দে লেখা প্রায় ১১৮টি শ্লোকে রচিত প্রেমমূলক কাব্যটি ‘পূর্বমেঘ’ ও ‘উত্তরমেঘ’ নামক দুটি অংশে বিভক্ত।
কাহিনি—পূর্বমেঘ-এ বর্ণিত হয়েছে এক যক্ষের রামগিরি আশ্রমে এক বছরের জন্য নির্বাসন দণ্ডে দণ্ডিত হওয়া। সেখানে প্রিয়া বিরহে কাতর যক্ষ আকুল হৃদয়ে মেঘের কাছে মিনতি জানালেন – দূতরূপে সে যেন কুশল সংবাদ বহন করে নিয়ে যায় অলকাপুরীতে বিরহিণী যক্ষপ্রিয়ার কাছে। রামগিরি থেকে অলকাপুরা পর্যন্ত সমস্ত পথের সুদীর্ঘ বর্ণনাও রয়েছে।
উত্তরমেঘ উত্তরমেঘের পটভূমি অলকা। অলকাপুরী সৌন্দর্যের লীলানিকেতন। উত্তরমেঘের বর্ণনায় যক্ষপ্রিয়ার অপরূপ রূপলাবণ্য ও অন্তর্বেদনার চিত্র ফুটে উঠেছে। শেষপর্যন্ত বিরহ দুঃখে, মিলনের পূর্বাভাস সূচনা করে ‘মেঘদূতম্’ কাব্যের পরিসমাপ্তি ঘটে।
গীতিকাব্য হিসেবে মেঘদূত—‘মেঘদূত’ কাব্যের বিশিষ্টতা নিচে উল্লেখিত হলো—
- এই কাব্যে রয়েছে কবিহৃদয়ের সুতীব্র বিরহবেদনা এবং প্রিয়তমার সঙ্গে মিলনের গভীর ব্যাকুলতা।
- মানুষের স্বপ্ন, বেদনা, কামনা কাব্যের শ্লোকে শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে।
- বিচ্ছেদের আগুনে পুড়িয়ে প্রেমের বিশিষ্টতা দেখানো হয়েছে।
- অপূর্ব ছন্দের দোলায় পাঠকহৃদয় দোলায়িত হয়।
মূল্যায়ন—দেশ বিদেশের নানা ভাষায় এই কাব্যটি অনূদিত হয়েছে। জার্মান কবি গ্যেটে এই কাব্যের পাঠে মুগ্ধ হয়েছেন। রসে গভীরতায়, ভাষা ও ছন্দের মাধুর্যে ‘মেঘদূত’ বিশ্বসাহিত্যে অতুলনীয়।
নাট্যকার কালিদাসের প্রতিভা সম্পর্কে লেখো।
সরস্বতীর বরপুত্র মহাকবি কালিদাস। সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে তিনি পরিচিত। কালিদাসের তিনটি নাটক–(১) ‘মালবিকাগ্নিমিত্রম্’ (রাজসভার জন্য), (২)‘বিক্রমোর্বশীয়ম্’ (লোকসভার জন্য), এবং (৩) ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ (বিদগ্ধ সভার জন্য), যা প্রেমমূলক নাটক।
মালবিকাগ্নিমিত্রম্ = এটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত পাঁচ অঙ্কের নাটক।নাটকটি কালিদাসের প্রথম বয়সের রচনা। শুঙ্গবংশের রাজা অগ্নিমিত্র এবং তার প্রধানা মহিষী ধারিণীর পরিচারিকা মালবিকার প্রেমকাহিনি এই নাটকের মূল কথাবস্তু। নাটকটি সমকালীন মঞ্চসফল নাটকগুলির অন্যতম ছিল।
বিক্রমোর্বশীয়ম্ = কালিদাসের দ্বিতীয় পঞ্চমাঙ্ক নাটক। স্বর্গের অপূর্ব সুন্দরী অপ্সরা ঊর্বশী ও মর্ত্যের রাজা পুরূরবার প্রণয়কাহিনিই এই নাটকের মূল বিষয়। নায়ক পুরূরবা প্রবল বিক্রমের সঙ্গে যুদ্ধ করে কেশী দানবের হাত থেকে ঊর্বশীকে উদ্ধার করেছিলেন। তাই নাটকের এরূপ নামকরণ।
অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ = কালিদাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি এই সাত অঙ্কের নাটক। পুরুবংশের রাজা দুষ্যন্ত এবং স্বর্গের অপ্সরা মেনকার কন্যা শকুন্তলার প্রণয়কাহিনি এই নাটকের উপজীব্য বিষয়। কালিদাসের কবিপ্রতিভা এই নাটকে সর্বাধিক লক্ষ করা যায়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়—“কালিদাসস্য সর্বস্বম্ অভিজ্ঞানশকুন্তলম্”।
মূল্যায়ন = কালিদাসের কবি প্রতিভা ভারতবর্ষের সীমা অতিক্রম করে বহির্ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রখ্যাত জার্মান কবি গ্যেটে বলেছেন – “কেহ যদি তরুণ বৎসরের ফুল ও পরিণত বৎসরের ফল, কেহ যদি মর্ত্য ও স্বর্গ একত্র দেখিতে চান তবে শকুন্তলায় তাহা পাইবেন।” কালিদাস মাবমহত্ত্বকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন বলেই কালিদাস পরবর্তী মানবসমাজে এতখানি গ্রহণীয় হয়েছেন।
‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটকের বিষয়বস্তু ও কালিদাসের নাট্যবৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
সূচনা = মহাকবি কালিদাস রচিত তিনটি নাটকের মধ্যে ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি সাত অঙ্কের একটি নাটক। রাজা দুষ্যন্ত ও শকুন্তলার কাহিনি এতে বর্ণিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু = হস্তিনাপুরের ভরতবংশীয় রাজা দুষ্যন্ত মৃগয়ায় বের হয়ে পথ ভুল করে মালিনী নদীর তীরে মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে প্রবেশ করেন। সেখানে শকুন্তলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে গান্ধর্ব মতে তাঁকে বিবাহ করে রাজধানী ফিরে যান। যাওয়ার সময় দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে তার নামাঙ্কিত একটি আংটি দিয়ে যান। এদিকে দুষ্যন্ত-ভাবনায় আনমনা শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন দুর্বাসা ঋষি। ফলে রাজধানীতে ফিরে এসে দুষ্যন্ত ভুলে যান ধর্মপত্নী শকুন্তলাকে। বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুনি কণ্ব শকুন্তলাকে স্বামীর ঘরে পাঠান। কিন্তু পথ-মধ্যে শকুম্ভলা হারিয়ে ফেলেন দুষ্যন্তের দেওয়া অভিজ্ঞানটি। অভিজ্ঞান দেখতে না পেয়ে দুষ্যন্ত শকুস্তলাকে রাজসভায় অপমান করে তাড়িয়ে দেন। মা মেনকার সহায়তায় শকুন্তলা আশ্রয় নেন মারীচের তাপোবনে। সেখানে শকুন্তলার অপরূপ সুন্দর পুত্র সর্বদমনের জন্ম হয়। অনেক পরে এক জেলের কাছে দুষ্যন্তের নামাঙ্কিত আংটি পেয়ে রাজার শকুন্তলা সংক্রান্ত সমস্ত ঘটনা মনে পড়ে যায়। অবশেষে ইন্দ্রকে যুদ্ধে সহায়তা করে স্বর্গ থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে মারীচের আশ্রমে সপুত্র শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্যন্তের মিলন ঘটে।
নাটকের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য = কাহিনি বর্ণনার মুনশিয়ানা সর্বজনস্বীকৃত। নায়িকা শকুন্তলা চরিত্রে পরিণতি এখানে লক্ষ করা যায়। নাটকের প্রকৃতি বর্ণনা এককথায় অনবদ্য। উপমা ব্যবহারে কালিদাসের শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত। সেইজন্য বলা যায়–“উপমা কালিদাসস্য”।
কালিদাস মানবতাবাদী কবি। এবং এই ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটক সম্পর্কে বলা হয়—“কালিদাসস্য সর্বস্বম্ অভিজ্ঞানশকুন্তলম্”। কারণ কবির পরিণত প্রতিভা মূর্ত হয়েছে এই নাটকে।
ভাসের ‘স্বপ্নবাসবদত্তম্’ নাটকের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। [অথবা] মহাকবি ভাসের ‘স্বপ্নবাসবদত্তম’ নাটকের মূল্যায়ন করো।
ভূমিকা—মহাকবি ভাসের তেরোখানি নাটকের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক হল ছয় অঙ্ক বিশিষ্ট উদয়ন, বাসবদত্তা ও পদ্মাবতীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত ‘স্বপ্নবাসদত্তম্’। আলংকারিক রাজশেখর এই নাটকের প্রশংসা করে বলেছেন যে, ভাসের সমগ্র রচনাবলি যখন অগ্নিপরীক্ষার জন্য নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, তখন নাকি এই নাটক আগুনে পুড়ে যায়নি।
স্বপ্নবাসবদত্তম্’ নাটকের বৈশিষ্ট্যগুলি হল :
(১) বিষয় বিন্যাসে দক্ষতা
(ক) ‘স্বপ্নবাসবদত্তম্’-নাটকে প্রেম ও বিবাহ মন্ত্রীর যন্ত্র হয়েছে। (খ) অবন্তিকার আত্মগোপন উদয়নের চরিত্র মহৎ করে এবং পদ্মাবতী তাঁর প্রতি আসক্তা হন। (গ) দ্বিতীয় অঙ্ক পুরুষবিহীন। ভাষা প্রাকৃত। পদ্মাবতী ও বাসবদত্তার কথোপকথনে চরিত্রের প্রকাশ। (ঘ) চতুর্থ অঙ্কে বাসবদত্তার প্রতি উদয়নের একনিষ্ঠ প্রেম বর্ণিত হয়েছে। (ঙ) পঞ্চম অঙ্কে সমুদ্রগৃহে স্বপ্নদৃশ্যে উদয়ন ও বাসবদত্তার ক্ষণিক মিলন। (চ) ষষ্ঠ অঙ্কে উদয়ন ও বাসবদত্তার পুনর্মিলনে ধাত্রীর আনা চিত্রই উদ্দেশ্য সিদ্ধ করেছে।
(২) বিভিন্ন রসের উদ্রেক
এই নাটকে একদিকে কোমল প্রেম ও অত্যন্ত উল্লাস, অন্যদিকে স্নায়বিক দুর্বলতা, উত্তেজনা, ভীতি, বিস্ময় থেকে একে একে করুণ, বিপ্রলম্ভ, শৃঙ্গার (প্রেম), ভয়ানক (ভীতি), ও অদ্ভুত (বিস্ময়) রসের সৃষ্টি হয়েছে।
মূল্যায়ন—কালিদাস-পূর্ববর্তী নাট্যকার ভাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক হলো স্বপ্নবাসবদত্তম্’। কাহিনি উপস্থাপনে, সংলাপের সহজ সরল ভঙ্গিতে, মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণে, মানবিক আবেদন ও রস পরিবেশনের কুশলতায় মহাকবি ভাসের আলোচ্য নাটকটি বিশেষ কৃতিত্বের দাবি রাখে।
শূদ্রক সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ লেখো। [অথবা] ‘মৃচ্ছকটিকম্’ নাটকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে লেখো।
কবিরূপে প্রথিতযশা মহারাজ শূদ্রক অগাধ শক্তিশালী ছিলেন। তিনি ঋগ্বেদ, সামবেদ, গণিতশাস্ত্র এবং হস্তবিদ্যায় নিপুণ ছিলেন। নাট্যকার স্বয়ং নিজের রচনার সূচনায় সূত্রধারের মুখে নিজের পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন।
রচনাবলি—শূদ্রকের রচনাগুলি হল– (১) পদ্মপ্রাভূতক (২) মৃচ্ছকটিকম্ (দশ অঙ্কের) প্রভৃতি।
মৃচ্ছকটিকম্
শূদ্রকের ‘মৃচ্ছকটিকম্’ শুধু নাট্যসাহিত্যেই নয়, সমগ্র সংস্কৃত সাহিত্যেই এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। এমনভাবে সাধারণ মানুষকে নিয়ে সংস্কৃত ভাষায় কখনও কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি। এদিক দিয়ে সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে ‘মৃচ্ছকটিকম্’-এর স্থান এক এবং অনন্য। শূদ্রকের ‘মৃচ্ছকটিকম্’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নাটকগুলির মধ্যে একটি।
রচনাকাল—খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের মধ্যেই শূদ্রকের এই নাটক রচিত হয়েছিল।
উৎস—গুণাঢ্যের ‘বৃহৎকথা’ প্রভৃতি লোকপ্রচলিত কাহিনি থেকে নাট্যকার কাহিনিবস্তু সংগ্রহ করেছেন।
কাহিনি—উজ্জয়িনীর বারবনিতা বসন্তসেনা চারুদত্তের প্রতি আকৃষ্ট। অন্যদিকে রাজশ্যালক লম্পট, দুষ্ট চরিত্রের শকার বসন্তসেনার প্রতি প্রণয়প্রার্থী। বসন্তসেনা অবশ্য শকারকে আদৌ পছন্দ করেন না। বসন্তসেনাকে না-পেয়ে ক্রুদ্ধ, ক্ষুব্ধ শকার ক্ষিপ্ত হয়ে তার গলা টিপে ধরলে বসন্তসেনা মূর্ছিত হয়ে পড়েন। শকার তাকে মৃত ভেবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চারুদত্তকে মিথ্যাভাবে হত্যায় অভিযুক্ত করে এবং রাজার সাহায্যে অন্যায়ভাবে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করায়। এদিকে বসস্তসেনার জ্ঞান ফিরলে চারুদত্তকে বাঁচাতে তিনি বধ্যভূমিতে যান। অন্যদিকে আর্যক উজ্জয়িনী অধিকার করে অত্যাচারী রাজা পালককে সিংহাসনচু রেন। আর্যকের একসময়ে উপকারী চারুদত্ত রাজ্যখণ্ড ও প্রধানমন্ত্রিত্ব পেয়ে বসন্তসেনাকে বধূর মর্যাদা দিয়ে ঘরে নিয়ে আসেন।
নাট্যবৈশিষ্ট্য—‘মৃচ্ছকটিকম্’-এ শূদ্রক অসাধারণ নাট্যকৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যেমন (১) শূদ্রকের ‘মৃচ্ছকটিকম’ একটি সামাজিক প্রেমমূলক বাস্তবধর্মী নাটক। এর সঙ্গে কৌশলে রাজনৈতিক ঘটনাযুক্ত হয়ে এক নতুন তাৎপর্য দান করেছে। (২) বস্তুত তথাকথিত প্রাকৃত ও তুচ্ছ চরিত্রগুলির মধ্যে মনুষ্যত্ব আবিষ্কার এই নাটকের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব। (৩) সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব লক্ষণীয়। (৪) সিরিয়াস রচনায় সামাজিক বিশৃঙ্খলার চিত্র উপস্থাপন এবং সামাজিক অস্থিরতাকে প্রচলিত শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনরোষে রূপান্তর কৃতিত্বের দাবি রাখে। (৫) এই নাটকের ভাষাশৈলীও অনবদ্য। নানা চরিত্রের মুখে নানা প্রাকৃতের ব্যবহার হয়েছে। যেমন শৌরসেনী (বসন্তসেনা, সূত্রধার, বীরক, চন্দনক), প্রাচ্যা (মৈত্রেয়), মাগধী (সংবাহক), শাকারী (সংস্থানক), চাণ্ডালী (চণ্ডাল), ঢক্কী (জুয়াড়ি) প্রভৃতি। (৬) এই নাটকের সংলাপ সর্বত্র চরিত্রানুগ, গতিশীল এবং সংক্ষিপ্ত। (৭) এই নাটকের প্লট বেশ জটিল। এর নানা উপকাহিনি মূল কাহিনিকে সমৃদ্ধ করেছে। (৮) সাধারণ মুখে মানায় এমন প্রবাদ, বাগ্ভঙ্গি, উপমা, দৃষ্টান্তের যোগে চরিত্রগুলি জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নাটকের নামকরণ, বাস্তবতা, বৃহৎ সামাজিক ব্যবস্থার পরিসর প্রভৃতি কারণে নাটকটি বেশ সমাদৃত।
মূল্যায়ন—পরিশেষে বলা যায়– ‘মৃচ্ছকটিকম্’ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নাটকগুলির মধ্যে একটি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্টের অবদান আলোচনা করো।
প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নাম আর্যভট্ট। প্রথম আর্যভট্ট খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের ব্যক্তি। প্রাচীন ভারতীয় সিদ্ধান্ত জ্যোতির্বিদ্যার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন তিনি। অবিস্মরণীয় এই জ্যোতির্বিদ ‘গুপ্তযুগের নিউটন’ নামেও অভিহিত হন।
গ্রন্থাবলি—আর্যভট্ট তিনটি গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলি হল—
(১) ‘আর্যভট্টীয়’ = এই গ্রন্থেই বলা হয়েছে, পৃথিবী সূর্্যের চারিদিকে ঘোরে। চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের প্রকৃত কারণ তিনি এই গ্রন্থেই উল্লেখ করেন।
(২) ‘আর্যাষ্টশতক’ = তিন পরিচ্ছেদে বিভক্ত এই গ্রন্থে গণিত আলোচনা রয়েছে।
(৩) ‘দশগীতিকাসূত্র’ = সৌরমণ্ডল তথা মহাকাশ পর্যবেক্ষণের নানা তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান
আর্যভট্টের জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার প্রধান বৈশিষ্ট্য নতুন নতুন পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। তিনিই প্রথম জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গ্রহগুলির ব্যাখ্যা করেন। বীজগণিতকে ভারতীয় গণিতের সঙ্গে সর্বপ্রথম তিনিই পরিচয় করিয়ে দেন। গ্রহদের অবস্থান গণনার প্রয়োজনে তাঁর হাতে জ্যামিতির বহু নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে। তাঁর অন্যতম গাণিতিক আবিষ্কার হচ্ছে ‘পাই’-এর মান নির্ণয়।
মূল্যায়ন—জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য আর্যভট্ট স্মরণীয়। তাঁকে ‘গুপ্তযুগের নিউটন’ বলা হয়। পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের কথা এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির ব্যাখ্যা তাঁর অবদান। এ ছাড়া বর্গমূল, ঘনমূল নির্ণয়, সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের আবর্তন প্রভৃতির আবিষ্কারের জন্য আর্যভট্ট চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার ইতিহাসে বরাহমিহিরের কৃতিত্ব বিচার করো।
ভূমিকা—ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে আর্যভট্টের পরে যাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন বরাহমিহির। ভারতীয় সংস্কৃতির সুবর্ণযুগে মগধের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে বরাহমিহিরের জন্ম। বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের একটি রত্ন বরাহমিহির ৫০৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পৃথিবীতে ছিলেন।
(১) জ্যোতিষগ্রন্থ—জ্যোতিষ সংক্রান্ত বরাহমিহিরের রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো,
(ক) বৃহৎসংহিতা (খ) লঘুজাতক (গ) বৃহজ্জাতক (ঘ) পঞ্চসিদ্ধান্তিকা প্রভৃতি।
(২) পঞ্চসিদ্ধান্তিকা—গণিত জ্যোতিষের ক্ষেত্রে বরাহমিহিরের পাঁচখানি গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য রয়েছে, যা একসঙ্গে ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ নামে পরিচিত। সিদ্ধান্তগুলি বরাহমিহিরের মৌলিক গ্রন্থ নয়, এগুলি উৎকৃষ্ট সংকলনমাত্র। নিম্নে এগুলি সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।
(২.ক) পৈতামহসিদ্ধান্ত : এটি মূলত কাল বিভাজন গ্রন্থ। এখানে বছর বিভাজন, সৌরমাস, চান্দ্রমাসের বিভাজনসূত্র বর্ণিত হয়েছে।
(২.খ) বাসিষ্ঠসিদ্ধান্ত : এখানে চন্দ্রের অবস্থান নির্ণয়ের নিয়মাবলি, শঙ্কুছায়ার দৈর্ঘ্য নির্ণয় এবং তার সাহায্যে সূর্যের অবস্থান গণনার পদ্ধতি, দিনরাত্রির পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতি প্রভৃতি আলোচিত হয়েছে।
(২.গ) সৌর বা সূর্যসিদ্ধান্ত : ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময়কাল নির্ণয়ের বিভিন্ন গণনা পদ্ধতি আছে।
(২.ঘ) রোমকসিদ্ধান্ত : এটি মূলত পাশ্চাত্য গণিত জ্যোতিষের সারসংকলন। এখানে বরাহমিহির পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়কে ভারতীয় পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন।
(২.ঙ) পৌলিশসিদ্ধান্ত : ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’-র প্রথম অধ্যায় পৌলিশসিদ্ধান্ত। এখানে আছে রবিপথ ও চান্দ্রপথের বিভিন্নতা, অধিমাস ও তিথিপ্রলয়ের সংখ্যা নির্ণয় প্রভৃতি।
মূল্যায়ন—ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানকে যাঁরা বিশ্বের দরবারে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন তাঁদের মধ্যে বরাহমিহির হলেন অন্যতম।
প্রাচীন ভারতের গণিতচর্চা সম্পর্কে আলোচনা করো।
গণিতশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। কেউ ব্যাবিলনকে, কেউ-বা মিশরকে, আবার কেউ-বা ভারতবর্ষকে গণিতশাস্ত্রের জন্মস্থানরূপে বর্ণনা করেছেন।
‘গণিত’ শব্দটির অর্থ সংখ্যা বা অঙ্ক গণনার দ্বারা যে পদ্ধতির প্রয়োগ হয়। ব্যষ্টি বা সমষ্টির দ্বারা নির্ণয় পদ্ধতিকে গণিত বলে।
শাখাসমূহ—গণিতের দুটি প্রধান শাখা (১) সংখ্যাগণিত (পাটিগণিত ও বীজগণিত) (২) আকৃতিগণিত (জ্যামিতি)।
প্রাচীন সাহিত্যে গণিত
বৈদিক সাহিত্যের অন্তর্গত নানা শৃল্বসূত্রে বিভিন্ন গাণিতিক পদ্ধতির উল্লেখ পাওয়া যায়। বৈদিক যাগযজ্ঞের প্রয়োজনে নানা বেদি নির্মাণে জ্যামিতি বিষয়ক জ্ঞানের ধারণা জন্মে।
পাটিগণিত—প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিদগণ ফলকের উপরে ধুলো ছড়িয়ে তার উপরে আঁকজোক করে বিভিন্ন সমাধান করতেন। এই পদ্ধতিকে ধূলিকর্ম বলে। ব্রহ্মগুপ্ত, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্য, দ্বিতীয় আর্যভট্ট প্রমুখ তাঁদের গ্রন্থে গণিতাধ্যায় নামক একটি আলাদা অধ্যায় যুক্ত করেছেন। শ্রীধরাচার্য গণিতের বিশেষ ধারাকে বোঝাতে ‘পাটিগণিত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘পাটিগণিতসার’।
বীজগণিত—আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ শতকে ভারতবর্ষে বীজগণিতের চর্চা শুরু হয়। শূল্কসূত্রে বীজগণিতের নানা তত্ত্ব আছে।
জ্যামিতি—বৈদিক যুগ থেকে আর্যগণ জ্যামিতিতে পারদর্শী ছিলেন। বৈদিক যুগে যজ্ঞবেদি নির্মাণে ক্ষেত্রমিতির ব্যবহার জানা ছিল।
গণিতশাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি—প্রথম আর্যভট্টের—আর্যভট্টীয়, ব্রহ্মগুপ্তের—ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্যের—সিদ্ধান্তশিরোমণি এবং লীলাবতী, দ্বিতীয় আর্যভট্টের—আর্যসিদ্ধান্ত, শ্রীধরের—ত্রীশতী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
প্রাচীনভারতের জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতচর্চা সম্বন্ধে লেখ।
প্রাচীন ভারতের জ্যোতির্বিদ্যাচর্চা
(১) বিভিন্ন গ্রন্থ—আর্যভট্টের তিনটি গ্রন্থ—আর্যভট্টীয়, আর্যাষ্টশতক এবং দশগীতিকাসূত্র। বরাহমিহিরের—পঞ্চসিদ্ধান্তিকা। ব্রহ্মগুপ্তের—ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্যের—সিদ্ধান্তশিরোমণি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
(২) আর্যভট্ট—জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য আর্যভট্ট স্মরণীয়। তাঁকে ‘গুপ্তযুগের নিউটন’ বলা হয়। পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের কথা এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কথা, অক্ষরের দ্বারা সংখ্যা প্রকাশ তাঁর অবদান। এ ছাড়া বর্গমূল, ঘনমূল নির্ণয়, সমান্তর শ্রেণির যোগফল, বৃত্তের পরিধির সঙ্গে তার ব্যাসের অনুপাত, সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের আবর্তন, ত্রিকোণমিতির মান প্রভৃতির আবিষ্কারের জন্য আর্যভট্ট চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
(৩) বরাহমিহির—ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যাকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বরাহমিহির। গণিত জ্যোতিষের ক্ষেত্রে বরাহমিহিরের পাঁচখানি গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য। এগুলিকে একসঙ্গে বলে ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’। তাঁর সিদ্ধান্তগুলির নাম হল–‘পৈতামহসিদ্ধান্ত’, ‘বাসিষ্ঠসিদ্ধান্ত’, ‘সৌর বা সূর্যসিদ্ধান্ত’, ‘রোমকসিদ্ধান্ত’, ‘পৌলিশসিদ্ধান্ত’। সিদ্ধান্তগুলি বরাহমিহিরের মৌলিক গ্রন্থ নয়, এগুলি উৎকৃষ্ট সংকলন।
প্রাচীন ভারতের গণিতচর্চা
গণিত বিষয়ের উল্লেখ আছে যেসব গ্রন্থে—আর্যভট্টের ‘আর্যভট্টীয়’ গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়ে, ‘আর্যাষ্টশতক’-এর তৃতীয় পরিচ্ছেদে। ব্রহ্মগুপ্তের ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’ গ্রন্থের দ্বাদশ অধ্যায়ে পাটিগণিত, অষ্টাদশ অধ্যায়ে বীজগণিত। দ্বিতীয় ভাস্করাচার্য-এর ‘সিদ্ধান্তশিরোমণি’-তে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি আলোচিত।