Last Update : June 29, 2024
একাদশ শ্রেণির পাঠ্য একটি গল্প হল ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা, বিষ্ণুশর্মা রচিত পঞ্চতন্ত্রের অন্তর্গত। এই গল্পের নীতিকথা হলো : দুই শত্রু বিবাদ করলে তৃতীয় পক্ষের উপকার সাধন হয়।
যাইহোক, এই গল্প থেকে একটি উল্লেখযোগ্য রচনাধর্মী প্রশ্নের নমুনা উত্তর এখানে দেওয়া হলো।এককার্যাবেবাম – এই কথাটি ব্যাখ্যা করো
আলোচিত টপিক
প্রসঙ্গ :
বিষ্ণুশর্মা প্রণীত “ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা” গল্পে চোর ও ব্রহ্মরাক্ষসের কথোপকথনকালে চোরের কথায় বিশ্বাস উৎপন্ন হওয়ায় ব্রহ্মরাক্ষস চোরকে আনন্দের সঙ্গে বলেছিল – এটা খুবই সুন্দর যে তারা দুজনে একই কাজ অর্থাৎ ব্রাহ্মণের অহিত করতে যাচ্ছে।
সুন্দরের বিষয় :
হতদরিদ্র দ্রোণ নামক ব্রাহ্মণের হৃষ্টপুষ্ট গোবৎস দুটি দেখে এক চোর চুরি করার ফন্দি আঁটে। রাত্রে মাঝপথে আর এক শয়তান ভীষণাকার ব্রহ্মরাক্ষসের সঙ্গে চোরের বন্ধুত্ব হয়। “চোরে চোরে মাসতুতো ভাই” – এই প্রবাদে দুই শয়তান এক হয়ে ব্রাহ্মণের অমঙ্গল করতে চায়। পিশাচ রাত্রে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্রাহ্মণকে খেতে চায়। অতএব দুজনের উদ্দেশ্য এক – ব্রাহ্মণের অমঙ্গল করা। দুজনেই ব্রাহ্মণের অহিত (অমঙ্গাল) চায় বলেই দুজনের কাজই একইরকম (এককার্যেী)। দুই শয়তানের কাছে এই একই কাজ হওয়ায় তা অত্যন্ত সুন্দর মনে হয়েছে রাক্ষসের কাছে।
অসফলতা :
চোর ও ব্রহ্মরাক্ষসের কাজে কোনো মহৎ আদর্শ ছিল না। তাই স্বার্থের কারণে কে আগে ব্রাহ্মণের ক্ষতি করবে—এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। যদি চোর ও ব্রহ্মরাক্ষসের পূর্বাপর কার্য না থাকত তবে তাদের সাফল্য আসত। নিদ্রিত ব্রাহ্মণকে আগে খেতে চান ব্রহ্মরাক্ষস, কিন্তু চোর চায় আগে চুরি করতে। দুজনেরই একই ভয়—চুরির শব্দে ব্রাহ্মণ জেগে উঠলে খাওয়া হবে না ব্রহ্মরাক্ষসের, আবার খেতে গিয়ে যদি বাধা আসে আর ব্রাহ্মণ জেগে ওঠে তবে চুরি করতে পারবে না চোর।
এই নিয়ে দুজনের মধ্যে চরম বচসা হলে ব্রাহ্মণের ঘুম ভেঙে যায়। পরস্পরের দোষারোপে ব্রাহ্মণ উভয়ের অভিসন্ধি জানতে পারে। এবার সে মন্ত্রশক্তিতে ব্রহ্মরাক্ষসকে তাড়াল এবং লগুড় দিয়ে চোরের হাত থেকে গোরু দুটি বাঁচাল। ফলে তারা তাদের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়ে সুন্দর পরিকল্পনাকে অসুন্দরে পরিণত করল।
প্রশ্ন : এককার্যাবেবাম্ ব্যাখ্যা করো উওর
একাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত বড় প্রশ্ন উত্তর