রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা আলোচনা করো, একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, Pol Science Class XI Descriptive Chapter 1

Last Update : June 29, 2024

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা আলোচনা করো | একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান | Pol Science Class XI Descriptive Chapter 1

প্রশ্ন : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা আলোচনা করো। মান = ৮

? সূচনা : মানবসমাজ ও মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত ধ্যানধারণারও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা নির্দেশ করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা প্রদানের চেষ্টা করেছেন। এই সংজ্ঞাগুলিকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যথা—

[ক] রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা এবং [খ] অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা।

(ক) রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞাকে সাধারণভাবে সনাতন বা পুরাতনী সংজ্ঞা বলা হয়। এই ধারণা অনুসারে—রাষ্ট্রের উৎপত্তি, প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, কার্যাবলি প্রভৃতি যে-শাস্ত্রে আলোচিত হয়, তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। বিখ্যাত পণ্ডিতদের মতামত এখানে উল্লেখ করা হলো।

  • গার্নার প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলতে সেই শাস্ত্রটির কথা উল্লেখ করেছেন, যা কেবল রাষ্ট্রকে নিয়ে আলোচনা করে।
  • গেটেল বলেছেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল রাষ্ট্র কী ছিল তার ঐতিহাসিক অনুসন্ধান, বর্তমান রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে একটি নীতিশাস্ত্রসম্মত আলোচনা।
  • পল জানেঁ-র মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল সমাজবিজ্ঞানের অংশ।
  • বার্জেস-এর মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমিকতার বিজ্ঞান।
আরো পড়ুন :  রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর, একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, Pol Science Class XI Descriptive Chapter 1

(খ) অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা : আধুনিক আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলিকে অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেবল রাষ্ট্রকে নিয়ে আলোচনা করে না, সেই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির রাজনৈতিক আচার-আচরণ, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী প্রভৃতি নিয়েও আলোচনা করে।

  • লাসওয়েলের মতে, সমাজের প্রভাব ও প্রভাবশালীদের সম্পর্কে আলোচনা ও বিশ্লেষণের নামই হল রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
  • রবার্ট ডাল ক্ষমতা, শাসন বা কর্তৃত্ব-কে রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান প্রতিপাদ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
  • অ্যালান বলের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল সেই বিষয়, যা সামাজিক মানুষের বিরোধ এবং বিরোধের মীমাংসা নিয়ে আলোচনা করে।
  • কিন্তু ডেভিড ইস্টন রাষ্ট্র কিংবা ক্ষমতা কোনোটিকেই রাজনৈতিক অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু বলে মনে করেন না। তাঁর মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল ‘মূল্যের কর্তৃত্বমূলক বণ্টনের পাঠ’।
আরো পড়ুন :  রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর, একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, Pol Science Class XI Descriptive Chapter 1

যদিও এরূপ অর্থে প্রদত্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা গ্রহণ করতে অনেকেই সম্মত নন।

[] একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা : পরিশেষে বলা যেতে পারে যে, বিশ ও একুশ শতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতির বিশেষ পরিবর্তন হয়েছে। এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মোটামুটি সন্তোষজনক একটি সংজ্ঞা নির্দেশ করা যায়—

রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল সমাজবিজ্ঞানের সেই শাখা, যা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের তত্ত্ব, সংগঠন, শাসনপ্রণালী, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা ও মূল্যায়ন করে।

আরো পড়ুন :  রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর, একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, Pol Science Class XI Descriptive Chapter 1
——————————————–
শ্রেণি বিষয়
দ্বাদশ শ্রেণি সমস্ত বিষয়
একাদশ শ্রেণি সমস্ত বিষয়
দশম শ্রেণি সমস্ত বিষয়
নবম শ্রেণি সমস্ত বিষয়
অষ্টম শ্রেণি সমস্ত বিষয়
সপ্তম শ্রেণি সমস্ত বিষয়
ষষ্ঠ শ্রেণি সমস্ত বিষয়
পঞ্চম শ্রেণি সমস্ত বিষয়

————————————————

Leave a Comment

error: Content is protected !!